জরায়ুর টিউমার মহিলাস্বাস্থ্যের অত্যন্ত চেনা সমস্যা। চিকিৎসা পরিসংখ্যান বলছে প্রতি ১০০ জন মহিলার মধ্যে অন্তত ৪০ জন জরায়ুর টিউমারে আক্রান্ত হন। এই রোগ ঘিরে ভয় আর ভুল ধারনাও কম নয়। জরায়ুর টিউমারের লক্ষণগুলি কী কী, এড়াবার কি কোনও উপায় আছে, চিকিৎসাই বা কীভাবে হয়? সে সম্পর্কে জানালেন গাইনোকলজিস্ট ডাঃ তনুকা দাস(গুপ্তা) (Dr.Tanuka Das(Gupta), Gynecologist)
গাইনোকলজিস্ট ডাঃ তনুকা দাস(গুপ্তা) জানালেন, জরায়ু মাংসপেশী দিয়ে তৈরী। জরাইয়ুর মাংস পেশীর গাঁৎকে বলা হয় জরায়ুর টিউমার বা ইউটেরাইন টিউমার। মেডিকেলের পরিভাষায় ফাইব্রয়েড বা মায়োমা।
পিরিয়ডসের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, পেটে ব্যথা, ডির্ঘসময় স্থায়ী হওয়া বা ব্লিডিং-এ বাড়াবাড়ি ধরনের ক্লট দেখা যাতে পারে এই টিউমারের দরুন। কিন্তু অনেকক্ষেত্রে লক্ষণ বোঝা যায় না। ফাইব্রয়েড এক ধরনের নিরীহ টিউমার। জরায়ুর টিউমার আর জরায়ুর ক্যানসারও
একেবারেই আলাদা।
কোনও ক্ষেত্রে টিউমারের আকার ছোট হলেও অতিরিক্ত রক্তপাত হয়। আবার বড় হলেও দেখা যায় অনেক সময় তার তেমন কোনও লক্ষণ নেই।
তবে ঋতুচক্রে অত্যাধিক রক্তপাত, যন্ত্রণা, তলপেট ভার মনে হলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
কমবয়সীদের মধ্যে জরায়ুর টিউমারের ঘটনা খুব একটা দেখা না গেলেও ২৮-৫০ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে আকচার দেখা যায়।
টিউমারের আকারের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা পদ্ধ তি। টিউমারের আকার ছোট ও ধরণ নিরীহ হলে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। প্রতি ৬ মাস বা এক বছর অন্তর পরীক্ষা করে দেখা হয় তার বৃদ্ধির গতি। মাঝবয়সী রোগীদের ওষুধের সাহায্যেও চিকিৎসা করা হয়।
টিউমারের আকার বড় হলে এবং বিপদজনক হয়ে উঠলে উপায় সার্জারি। ফাইব্রয়েড মাইক্রো ও ওপেন দু’ভাবেই অপারেট করা যায়।