দক্ষিণী সিনেমা ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’ সিনেমা প্রবল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে দর্শকমহলে। এটি ২০২১ রিলিজ হওয়া 'পুষ্পা: দ্য রাইজ়' ছবির দ্বিতীয় ভাগ। এই সিনেমার কাহিনি মূলত এক কাঠ পাচারকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। তবে এই কাঠ অন্য সাধারণ কাঠের চেয়ে আলাদা। এই কাঠের নাম রক্তচন্দন। কিন্তু বিশেষ কিছু কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এই কাঠ অমূল্য।
হাইলাইটসঃ
১। আন্তর্জাতিক বাজারে রক্তচন্দন কাঠ অমূল্য
২। লাল চন্দন হল একটি 'এনডেমিক স্পিসিস'
৩। বর্তমানে সারা বিশ্বে মাত্র পাঁচ শতাংশ রক্তচন্দন গাছ রয়েছে
এ দেশে রক্তচন্দনের আরেক নাম 'লাল সোনা'। কারণ সোনার মতনই এই গাছ খুব মূল্যবান। লাল চন্দন হল একটি 'এনডেমিক স্পিসিস'। এনডেমিক স্পিসিস' শব্দের অর্থ এমন একটি উদ্ভিদ বা প্রাণীর প্রজাতি যা একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ এই গাছ ওই অঞ্চল ছাড়া আর কোথাও বেড়ে ওঠে না। সেই কারণে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সঙ্ঘ (আইইউসিএন) ২০১৮-য় এই গাছকে ‘প্রায় বিলুপ্ত’ শ্রেণির তালিকাভুক্ত করেছে।
দক্ষিণ ভারতের শেষাচলম পাহাড়ের ঘন জঙ্গলেই একমাত্র এই গাছ পাওয়া যায়। এক একটি গাছের উচ্চতা হয় ৮-১২ মিটার। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু লাগোয়া অন্ধ্রপ্রদেশের চার জেলা— নেল্লোর, কুর্নুল, চিত্তোর এবং কাডাপ্পা জেলায় শুধুমাত্র এই গাছ মেলে। কারণ, পূর্বঘাট পর্বতের আবহাওয়ায় এই গাছ খুব ভাল হয়।
কিন্তু উপকারী গাছ হিসেবে এর মূল্য আকাশছোঁয়া। রক্তচন্দন কাঠ রক্ত পরিশোধন করে। হজম, ডায়েরিয়া-সহ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে এই কাঠ বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও, পূজা-অর্চনা এবং বিভিন্ন প্রসাধনী দ্রব্য তৈরিতে বিপুল চাহিদা রয়েছে এই কাঠের।
রক্তচন্দন থেকে 'আর্থ মেটাল' পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও, রক্তচন্দন প্রাকৃতিক ভাবে আগুন রোধ করতে সক্ষম। সেই কারণে এই কাঠ খুব সহজে পোড়ে না। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে এই কাঠের চাহিদা অনেক।
কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ চাহিদার কারণেই এই কাঠ পাচার হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে কেজি প্রতি তিন হাজারেরও বেশি টাকা থেকে এই কাঠ বিক্রি শুরু হয়। বছরের পর বছর ধরে এই কাঠ এত বিশাল পরিমাণে কাটা এবং পাচার হয়েছে যে, সারা বিশ্বে আর মাত্র পাঁচ শতাংশ রক্তচন্দন গাছ পড়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে, চিন, জাপান, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং অস্ট্রেলিয়ায় এই কাঠের বিপুল চাহিদা রয়েছে। আসবাব, ঘরসজ্জা এবং বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র তৈরিতে বিদেশে এই কাঠ ব্যবহৃত হয়।
এমন অমূল্য ও লুপ্তপ্রায় সম্পদ বলেই ভারতে এই গাছ কাটা আইনতভাবে নিষিদ্ধ। এই পাচার রোধ করার জন্য ভারত 'রেড স্যান্ডলার্স অ্যান্টি-স্মাগলিং টাস্ক ফোর্স' গঠন করেছে। তবে আইনকে ফাঁকি দিয়েও এই কাঠ পাচার করে চোরাই পাচারকারী।