ভয়াবহ অতিমারি কোভিড-১৯-এর নাম শুনলেই বুক কেঁপে ওঠে সবার। সারা বিশ্ব আর কখনই ফিরে পেতে চায়না সেই ভয়ংকর মহামারি প্রকোপ কালকে। বিশ্বের বহু দেশ এখনও অর্থনীতির শোচনীয় ক্ষতি সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
তবে যেই চিন এই রোগ ছড়িয়েছিল আজ সেই চিন পড়েছে এক মহা বিপদে। আরও একটা সম্ভাব্য স্বাস্থ্য জরুরী অবস্থা সামনে আসছে।
বেশ অনেক মাস ধরেই চিনে একধরনের রহস্যময় নিউমোনিয়া রোগ দেখা দিয়েছে। সেখানে বেশিরভাগ আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ইতিমধ্যেই এই নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের জেরে চিনের হাসপাতালগুলিতে রোগীদের সমাগম। বেডের হাহাকার লেগে গিয়েছে সমস্ত হাসপাতালে।
জানা গিয়েছে যে বেজিং ও লিয়াওনিং প্রদেশ থেকে এই রহস্যময় নিউমোনিয়ার উপকেন্দ্র। অর্থাৎ এই দুই জায়গা থেকেই এই রোগের শুরু।
হাসপাতালে একের পর এক শিশু ভর্তি হচ্ছে এই রহস্যময় নিউমোনিয়া নিয়ে। এমনকি বহু স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে কারণ পড়ুয়া ও শিক্ষক একসাথে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।
কিন্তু কি করে বুঝবেন আপনি এই রোগে আক্রান্ত? কি ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে রহস্যময় এই রোগে?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে কোভিড ১৯-এর প্রথম পর্যায়ে যেই ধরনের উপসর্গ দেখা দিয়েছিল সবার মধ্যে, এই রহস্যময় নিউমোনিয়াতেও একই উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। শ্বাসকষ্ট এবং জ্বর। কিন্তু কাশি নেই।
বেজিংয়ের এক বাসিন্দা এক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে এই রোগের জন্য বহু শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। তবে তাদের কাশি নেই কিন্তু ধুম জ্বর রয়েছে এবং স্নায়ুজনীত সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।
এইরকম আশ্চর্য রহস্যময় নিউমোনিয়া কীভাবে ছড়াল গোটা দেশে? এই বিষয়ে এখনও কেউ কিছু বুঝতে পারছে না। তবে লক্ষ্য় করে দেখা যাচ্ছে যে কোরোনা যেমন বড়দের আক্রান্ত করতো বেশী, শিশুরা নয়। এই রোগে বেশিরভাগ আক্রান্তই শিশুরা।
মার্কিন এপিডেমিয়োলজিস্ট এরিক ফেইগল ডিং একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে ফের চিন মাস্কের নির্ভরে চলছে। গোটা দেশ রোগ থেকে বাঁচার জন্য ফের মাস্কের ব্যবহার শুরু করেছে।
গত অক্টোবর মাস থেকেই শুরু হয় এই রহস্যময় নিউমোনিয়া এবং চিনের বেশির ভাগ হাসপাতালে দেখা যাচ্ছে আক্রান্ত বাড়তে শুরু করে। ক্রমশই এক ভয়াবহ আকার নিয়ে ফেলছে এবং সেটা বাড়তেই থাকে। কোনও চিকিৎসাই কাজে দিচ্ছে না।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই রোগ সম্পর্কে সমস্ত রকম বিস্তারিত তথ্য জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে চিনকে।