'কাবুলিওয়ালা, ও কাবুলিওয়ালা, তোমার ওই ঝুলির ভিতর কী আছে?'
'ইসমে হাঁতি আছে, দেখবে তুমি?'
মরুদেশ আফগানিস্থানের পাহাড় পর্বত পেরিয়ে কলকাতার গলিতে মেওয়া খোবানি বিক্রি করতে আসা এক কাবুলি মেওয়াওয়ালা রহমতের সঙ্গে এই শহরের পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে মিনির অপত্য স্নেহের কাহিনিতে চোখের জলে ভেসেছিল বাঙালি।
ঘরে খুদে কন্যাকে একলা রেখে পেটের দায়ে ভিনদেশে আসা বিরহী কাবুলে আর বাঙালি বাড়ির কন্যাপ্রেম ভেঙে দিয়েছিল সীমান্তের বেড়া। স্নেহ ভালবাসার কোনও ভাষা হয় না, সেখানে কোনও সীমানার কাঁটাতার নেই। গল্পের ছত্রে ছত্রে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন লেখক রবীন্দ্রনাথ। ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয় গল্পগুচ্ছের এই ছোট গল্পটি।
১৯৫৭ সালে ছোট গল্পের চলচ্চিত্র রূপ দেন পরিচালক তপন সিংহ। বাংলা ছবি ‘কাবুলিওয়ালা’য় রহমতের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা ছবি বিশ্বাস, মিনি টিঙ্কু ওরফে ঐন্দ্রিলা ঠাকুর। মিনির বাবা ও মায়ের ভূমিকায় ছিলেন রাধামোহন ভট্টাচার্য ও মঞ্জু দে।
১৯৬১ সালের হিন্দি ভাষা ‘কাবুলিওয়ালা’ নির্মাণ করেছিলেন হেমেন গুপ্ত। রহমতের চরিত্রে বলরাজ সাহানি।
২০২৩ সালে ফের ফিরতে চলেছে ‘কাবুলিওয়ালা’। এবারে তাঁকে পর্দায় ফেরাচ্ছেন পরিচালক সুমন ঘোষ। নাম ভূমিকায় মিঠুন চক্রবর্তী। এক দিকে রবীন্দ্র কাহিনি অন্যদিকে তপন সিনহা আর ছবি বিশ্বাসের উত্তরাধিকার, কোনও দিকেই ভার কম নয়, কিন্তু দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞ কাঁধে সেই ভার সামলে নিলেন তিনি। গত মাসে প্রকাশ্যে এসেছিল পোস্টার। এবার সামনে এল সুমন ঘোষের ‘কাবুলিওয়ালা’ ছবির ট্রেলার। ট্রেলার দেখে মুগ্ধ হয়েছে সাধারণ সিনেমা প্রেমিরা। ফিরে এসেছে সেই নস্টালজিয়ার টান। দুই মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের ভিডিয়ো ট্রেলারে দেখা গিয়েছে মিনি আর কাবুলিওয়ালার প্রথম সাক্ষাতের দৃশ্য। সেখান থেকেই তাদের বন্ধুত্বের গল্প শুরু।
নজর কেড়েছে ছোট্ট মিনি ওরফে অনুমেঘা কাহালি। বাবা-মা অরবিন্দ ও স্নেহলতার চরিত্রে আবির চট্টোপাধ্যায় এবং সোহিনী সরকার। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে দেখা মিলবে কাঞ্চন মল্লিক, প্রমুখের। দেশ, ধর্ম, জাতপাতের উর্ধ্বে উঠে মানুষকে চেনার বার্তা দিচ্ছে এই ছবি। আবির চট্টোপাধ্যায়ের মুখে শোনা যাচ্ছে তেমন সংলাপও। এই ছবির প্রযোজনায় এসভিএফ এবং জিও স্টুডিয়োজ।
২২ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে কাবুলিওয়ালা। এই ছবি শুধুমাত্র অতীতের সাড়া জাগানো ছবির ‘রিক্রিয়েশন’ নয়, বাঙালির রবীন্দ্র ঐতিহ্যের উদযাপনও।