প্রথম বলিউডে পা রাখলেন জয়া, কেমন অভিজ্ঞতা হল ‘কড়ক সিং’-এর সেটে?

বহু সিনেমা করেছেন তিনি। ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিনি। তিনি জয়া আহসান। কলকাতায় এসে একের পর এক টলি পাড়ায় দুর্দান্ত অভিনয় করে গিয়েছেন তিনি। এবার ওটিটির হাত ধরেই বলি পাড়া মাতাতে চলেছেন জয়া।

জি ফাইভ ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এবার আসছে ‘কড়ক সিং’। ৮ তারিখ মুক্তি পাবে ছবিটি। ইতিমধ্যে ট্রেলার বেরিয়ে গেছে। প্রথমবার বলি অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠির সঙ্গে কাজ করলেন জয়া।

1QfZtiAs

এক সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে ‘কড়ক সিং’-এর সেটের গল্প নিয়েই আসর বসালেন অভিনেত্রী জয়া আহসন।

‘কড়ক সিং’এর অফারটা কিভাবে পেলেন অভিনেত্রী? জয়া জানালেন এখন তিনি দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তাঁর কাছে এই অফারটা প্রথম আসে টনিদা অর্থাৎ পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর কাছ থেকে। তাঁদের প্রথমে ফোনে কথা হয়েছিল, সেখানেই চিত্রনাট্য শুনে জয়া খুব ভালো লেগেছিল। কারণ, গল্পে প্রচুর বাঁক রয়েছে, চমক রয়েছে। তাঁর মতে দর্শকদের মন কাড়তে বাধ্য। চিত্রনাট্য পছন্দ করার তাঁর এটা প্রথম বিষয়। দ্বিতীয় বিষয় ছিল যে নিজের কমফোর্ট জোনকে ভাঙা।

তাঁর কথায় এই ছবির চিত্রনাট্য, ভাষা সবটাই ভীষণ নতুন। টনিদা বহুবার স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা করে, ওয়ার্কশপ করে অনেক সাহায্য করেছেন নায়িকাকে। তিনি আরও জানান যে ছবিতে কোনওরকম ডাবিং হয়নি, স্পটেই সমস্ত সংলাপ রেকর্ড করা হত। তাই এই বিষয়টা খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল তাঁর কাছে।

জয়ার কথা শুনে বোঝাই গেছিল যে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করার জন্যই এই ছবিটি বেছে নিয়েছেন তিনি। ‘কড়ক সিং’-এর পাশাপাশি সম্প্রতি একটি ইরানি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেটাও তাঁর কমফর্ট জোনের বাইরে। ছবিটা ইফিতেও মনোনীত হয়েছিল।

ZEE5-Global_Kadak-Singh_11zon

তিনি জানান যে হিন্দি ছবিতে কাজ করার আগে অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁকে ভাষা নিয়েও চর্চা করতে হয়েছে।

এছাড়া শ্যুটিং ফ্লোরে গিয়ে তিনি দেখতেন যে টনিদা একেবারেই চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন না। তাই শ্যুটিং করতে করতে অনেক কিছু বদলাতে থাকেন। এই বিষয়টাও নায়িকার কাছে ভিষণ চ্যালেঞ্জিং। তিনি জানান যে তিনি যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছেন তাঁর চরিত্রটাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে।

অভিনেত্রীর কাছে বলিউডে এসেই বড় পর্দায় পা রাখতে পারেননি, এটায় কোনও আফশোস নেই। তিনি অনেকদিন থেকে ওটিটিতে পা রাখার অপেক্ষায় ছিলেন। 'কড়ক সিং'-এর মতো চিত্রনাট্যের হাত ধরে হয়েছে। সেই বিষয়ে খুবই খুশী তিনি।

তাঁর মতে এখন ওটিটির জোরে অনেক অন্যরকম কাজ হচ্ছে। একটা সময় বলিউড বলতেই শিল্পীরা বয়স বা গ্ল্যামারের দিকটাই দেখতেন। অল্পবয়স আর গ্ল্যামার না থাকলে নায়িকা হওয়া অসম্ভব। এই ধারণা বদলে দিয়েছে ওটিটি। হয়তো আরও বলিউডে কাজের অফার পাবেন পরবর্তীকালে।

শ্যুটিংয়ের পাশাপাশি সেটে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে একটা মজার কথা বললেন জয়া। তিনি জানান যে মুম্বইয়ে শ্যুটিংয়ের অনেকটা অংশ হয়েছিল হাসপাতালে। ওখানে সবার জন্য একটা করে ঘর বুক করা ছিল। পঙ্কজজী অর্থাৎ অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠি সেই ঘরে ইন্ডাকসন বার্নার এনে রেখেছিলেন এবং শটের ফাঁকে নিজের হাতে সবার জন্য মোমো বানাতেন। সবাই জমিয়ে খেত সেই মোমো।

তিনি বললেন যে শ্যুটিংয়ের প্রথম কয়েকদিন সবাই খুব চেষ্টা করছিল ডায়েট মেনে খাওয়া দাওয়া করতে। কিন্তু সেটা শেষ পর্যন্ত কেউই করতে পারেননি। পঙ্কজজী, সঞ্জনা, পরেশ সবাই বাড়ি থেকে খাবার আনত এবং বেশিরভাগ সময়েই নিজের নিজের জায়গার বিশেষ পদ রেঁধে আনতেন। জয়াকে প্রথম লিট্টি চোখা খাওয়ান পঙ্কজজী।

একদিন সেটে নলেন গুড়ের রসগোল্লা দেখে আর লোভ সামলাতে পারেননি নায়িকা। আগে রসগোল্লা খাবে তারপরেই শট! স্কুলের মতো গোল করে বসে খাওয়াদাওয়া করত সবাই।

জয়া বললেন যে পঙ্কজজী অসম্ভব ভাল আর একজন দায়িত্বশীল একজন অভিনেতা। তিনি ভীষণ হালকা মেজাজে কাজ করতে ভালবাসেন। তাঁকে সবসময় বলতেন বাংলায় কথা বলতে। তাঁর (পঙ্কজ ত্রিপাঠি) স্ত্রী বাঙালী তাই ভাষা বুঝতে অসুবিধে হত না। অভিনেত্রীর কাছে থেকে বাংলাদেশের গল্প শুনতে চাইতেন। এছাড়া অভিনয়ের সময় ভীষণ সাহায্য করতেন তাঁকে।

অভিনেত্রী সঞ্জনা সাংঘির সঙ্গে কাজ করে ভীষণ ভাল লেগেছে জয়ার। খুব কম বয়সে ও দারুণ অভিনয় করছে সঞ্জনা। এছড়া তাঁদের প্রযোজক ভীষণভাবে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সুবিধা অসুবিধা দেখতেন।

বাংলাদেশের মানুষেরা জয়াকে ভীষণ ভালবাসেন। ওই দেশেই তাঁর অভিনয়চর্চা, তাই সেই জিনিসটা কখনই ভুলবেন না তিনি। কলকাতায় এসে কাজ করলেও কিংবা এখন বলিউডে কাজ করলেও ভুলবেন না নিজের দেশকে।

তিনি কখনই কমার্শিয়াল ছবিতে অভিনয় করতে চাইনি। এমন ছবিতে কাজ করতে চান যেটা অনেকদিন থেকে যাবে সবার মনে।

ঢাকার বাড়িতে থাকলে জয়ার সময় কাটানোর জন্য কেউ রয়েছেনই। তাঁরা হল ৩টে চারপেয়েই পোষ্য। কলকাতা শহরে এলে তাঁদের খুব মিস করেন তিনি। তিনি ঢাকায় একটু লম্বা ছুটি নিয়ে আসলেই ওদের নিয়ে ঘুরতে চলে যায় কোথাও।

এছাড়াও তাঁর বাড়িতে প্রচুর গাছ রয়েছে। তাঁর কথায় সকালে মাটি না ঘাঁটলে যেন দিনই শুরু হয় না তাঁর। তিনি ছাদের গাছ থেকে আমলকি, বেদানা, আঞ্জির, পিচ, বিভিন্ন শাক তুলে আনেন। বাড়ির ছাদেই খেজুর, সুপারি, জলপাই, জারুলের মতো গাছ রয়েছে। কলকাতায় থাকলে মাকে বলে ভিডিও কল করে গাছগুলো দেখাতে। তাতে তাঁর মন ভালো হয়।

তিনি বলেন যে তাঁর ছাদ একেবারেই সাজানো বাগান নয়, জঙ্গল। নিজের মতো বাড়তে থাকে গাছ।

তাঁর কাছে বাড়ির এই শান্তি বোধহয় পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যাবে না।

এটা শেয়ার করতে পারো

...

Loading...